মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিখোঁজের ছয়দিন পর মারিয়া মাহি (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষকসহ মোট ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিহত মাহির সহপাঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এর আগে গত ২১ জুন (রবিবার) উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের একটি কবরস্থানের পাশের পরিত্যক্ত বাঁশঝাড় থেকে মাহি’র খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাহি সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফ ও মাহি’র আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি ধারণ হলে ১৩ জুন বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয় এবং উভয় শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর সনদ (টিসি) প্রদান করে। পরিবারের দাবি, ওই দিন বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর থেকেই মাহি নিখোঁজ ছিল।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ এ পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন— উপজেলার কানাইনগর গ্রামের কথিত প্রেমিক আলিফ (১৭), তার বোন আয়েশা আক্তার (২১), মা রুমা আক্তার (৩৫), সাহরাইল গ্রামের মাসুদ হোসেন (৩৫), রাসেল হোসেন (২৫), সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (৩৫)।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "লাশ উদ্ধারের পর মাহির পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









