লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটিতে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানসহ আওয়ামী লীগের ১৭৯ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
গত সোমবার (২২ জুন) রাতে রামগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী রবিউল হাসান রাব্বি। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে, ছাত্রাবাস থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি পৃথক মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁর ছেলেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
ভাঙচুরের মামলার এজাহারভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন, সহ-সভাপতি শামছুল হক মিজান, দপ্তর সম্পাদক এমরান হোসেন (ইট বাচ্চু), সাবেক পৌর মেয়র বেলাল আহমেদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম (বিএসসি), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব শহীদ চৌকিয়া, যুবলীগ নেতা মোর্শেদ আলম বাবু, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সৈকত মাহমুদ সামছু, ইরান পাটোয়ারী, মিলন পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ভূঁইয়া, সাবেক কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেন রাজু এবং আবদুল হান্নান বাবুসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুন আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ভোলাকোট ইউনিয়নের উদয়পুর এলাকায় অবস্থিত ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে একত্রিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও জখম করা হয়। শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জনরোষকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









