বান্দরবানের লামা উপজেলার বিভিন্ন ম্রো পাড়াসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। হঠাৎ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ৫০ শয্যার লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর ধারণ ক্ষমতা পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
জানা যায়, গত কয়েকদিনে উপজেলার ৬ নম্বর রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের দুর্গম ‘ছুমপং হেডম্যান ম্রো পাড়া’র ১৮টি পরিবারের মা ও শিশুসহ প্রায় সকলেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চুমপং হেডম্যান ম্রো পাড়ার বাসিন্দা ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেনপ্রে ম্রো জানান, তাদের পাড়ায় মোট ১৯টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে ১৮টি পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে তারা বিভিন্ন সময়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে একই পাড়ার মা ও শিশুসহ ১৩ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা পাহাড় ধুয়ে ঝিরি ও ঝরনা বেয়ে আসা রোগজীবাণুযুক্ত ঘোলা পানি পান করেন। মূলত এই দূষিত পানি পানের কারণেই ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জানান, হাসপাতাল ভর্তি হওয়া রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের সুস্থতায় আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
দুর্গম এলাকার এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি স্থানীয়দের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









