ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ শীর্ষ ৩ পদ শূন্য রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ এ পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিনে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
তারা জানায়, চলতি বছরের ২৩ মে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অবসর গ্রহণ করেন। এর ১০ দিন আগে গত ১৩ মে অবসরে চলে যান বোর্ড সচিবও। সর্বশেষ চলতি মাসের ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষ ৩ পদে শূন্যতার সৃষ্টি হয় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।
এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে দ্রুত পদায়নের দাবি করেছেন বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
মো. আব্দুল হামিদ নামের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘বোর্ডে প্রতিদিন শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ৩ পদ শূন্য থাকার কারণে বর্তমানে অনেক কাজ আটকে আছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অনেকেই।’’
জানা গেছে, বোর্ড চেয়ারম্যান পদে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস.এম আরিফুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, শেরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আ.জ.ম রেজাউল করিম খান, আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম সামসুজ্জামান, প্রফেসর কাজী কাইয়ূম শিশিরসহ প্রায় দুই ডজন প্রার্থী আলোচনায় রয়েছে। এছাড়াও সচিব এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ এসব পদে প্রায় অর্ধশত প্রার্থী আবেদন জমা দিয়েছেন।
তবে এসব প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। এর মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনের নেতা। কিন্তু দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা ভোল্ট পাল্টিয়ে ক্ষমতাসীন দলে ভিড়ছেন বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতা মো. আব্দুস সাত্তার।
অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস.এম আরিফুর রহমান আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনের নেতা। তিনি আনন্দ মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৫ আগস্ট উদযাপন কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও দাবি সূত্রের।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এস.এম আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘দায়িত্বে থেকে অনেক সময় অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে আমি কখনো বিতর্কিত কোন দলের পক্ষে দায়িত্ব পালন করিনি। কিন্তু একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী অবগত আছেন। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছেন।’’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড গঠিত হয়। এ বোর্ডের আওতায় ১৩৩২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









