গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা কাটতে না কাটতেই আবারও বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ লাঠিচার্জ এবং তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের দাবি, বৃহস্পতিবারের শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কারখানার ভেতরে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপের মালিকানাধীন বদর স্পিনিং মিলস ও কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড-এর শ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সকাল থেকে শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হলে কারখানার সামনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের ভাষ্য, মিলাদ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে হঠাৎ লাঠিসোটা হাতে কয়েকজন বহিরাগত যোগ দিয়ে কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু অপরিচিত ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। তাদের কারণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
আলাউদ্দিন নামে এক শ্রমিক জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে বদর স্পিনিং মিলসের কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাঁদের মধ্যে আল আমিন নামে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার সামনে ও আশপাশের সড়কে সহস্রাধিক শ্রমিক অবস্থান করছেন। কারখানার ভেতরেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছিলেন। ভেতরে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও ফটকের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন দেখা যায়নি। বেলা ১১টার পর শ্রমিকরা ধীরে ধীরে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, সকালে শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশের সময় কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে চলে গেছেন।
শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা
নিহত শ্রমিক লিজা আক্তার (৩৬) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার আনসার রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত বুধবার রাতের শিফটে কাজ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। সহকর্মীদের দাবি, গর্ভবতী লিজা অসুস্থতার কারণে ছুটি চাইলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মঞ্জুর করেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আশপাশের চার থেকে পাঁচটি কারখানায় ভাঙচুর চালান।
১,১০০ জনের বিরুদ্ধে তিন মামলা, গ্রেপ্তার ৩
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ শ্রীপুর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে।
মামলাগুলোতে ট্রিপল অ্যাপারেলে হামলার ঘটনায় ৩০০ জন, এমএইচসি অ্যাপারেলে ৫০০ জন এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলসে হামলার ঘটনায় আরও ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিন মামলায় মোট ১,১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









