টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর মঈন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা সেতু পূর্ব পাথরঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মঈন শুক্রবার দুপুরে নিখোঁজ হন।
মঈন মাগুরা জেলা পৌর শহরের কাশিনাথ এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে। মঈনের বাবা একটি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে টাঙ্গাইল পৌর শহরে গত ১৭ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। মঈন টাঙ্গাইল সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরের দিকে মঈন তার ৭ বন্ধুর সঙ্গে যমুনা সেতু পূর্ব পাথরঘাট এলাকায় গোসলে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে সাঁতার না জানায় তিনি পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ৯৯৯- এ ফোন পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে সেদিন মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার ভোর থেকে আবার উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে মঈনের মরদেহ ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মঈনের মরদেহ উদ্ধার করে যমুনা সেতু পূর্ব নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নিহতের মা জানান, গত শুক্রবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে তার ছেলে মঙ্গন নিখোঁজ হয়। শনিবার বিকেলে মঈনের মরদেহ ভেসে ওঠে। আমার ইচ্ছা ছিল মঈনকে পাইলট বানাবো। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
টাঙ্গাইল সদর ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোস্তফা কামাল বলেন, ডুবুরি দলের কয়েকজন সদস্য টানা ২৮ ঘণ্টা চেষ্টার পর নিখোঁজ স্কুলছাত্র মঈনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে মরদেহ নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যমুনা নদীর পূর্ব পাড় নৌ-পুলিশের (ওসি) কালাম খান বলেন, যমুনা সেতু পূর্ব পাথরঘাট এলাকায় গোসল করতে নেমে ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে মঙ্গন নামে এক শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা যায়। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









