এক সময় খেয়া পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হতো, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো খেয়া পারাপারে।ঝড়-বৃষ্টিতে সৃষ্টি হতো জনদূর্ভোগ। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি দূর করলো কাঠ-বাঁশে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এক সেতু।
খেয়াঘাটের নৌকা নির্ভরতা, অপেক্ষা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা বাজার-সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ৭ ফুট প্রসস্থ এবং ২৪০ ফুট দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের স্মৃতিকে ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফাউন্ডেশন তাদের নিজস্ব অর্থায়নে জনস্বার্থে সেতুটি নির্মাণ করেছে।
শনিবার ২৭ জুন, দুপুর ১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটি দশটি গ্রামের হাজারো মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়-ধল্লা ইউনিয়নের চরউলাইল, ভাটিরচর, খাসেরচর, গেলেপাড়া, ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া, ফকিরপাড়া, বরদাইল, লাঙ্গুলিয়া, ধল্লা লক্ষীপুরসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ এতদিন ধল্লা বাজার খেয়াঘাটের ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতো। বাজার, হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা কিংবা উপজেলা সদরে যেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন।সেতুটি নির্মানের ফলে সহজেই মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য যাতায়াত করতে পারছে।
সেতুটি উদ্বোধনকালে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সানি বলেন, ‘আমার বাবার স্মৃতিকে মানুষের কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতেই ২০১৯ সালে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। ২০২২ সালে উপজেলা-ব্যাপী মেধাবৃত্তি কর্মসূচি চালু করি। এরপর থেকে শিক্ষা, মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছি। এই সেতু নির্মাণও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই। সবার কাছে আমার বাবা ও পরিবারের জন্য দোয়া চাই।’
সেতুটি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে জনগণের মাঝে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ায় আনন্দিত সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









