মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলে সারা বছরই কোন না কোন ফসলে ভর্তি থাকে মাঠ। চলতি মৌসুমে কেবল বাদাম ঘরে তুলছেন চাষীরা। পদ্মার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বাদামের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আর এতে খুশি প্রান্তিক এই মানুষেরা। সারা বছরই পদ্মার চরাঞ্চলে চাষাবাদ হয় নানান ফসল। ধান, কালোজিরা, মসুরসহ শীতকালীন নানা ফসল ছাড়াও চরের জমিতে বাদামের ফলন প্রতি বছরই ভালো হয়। চলতি বছর বৃষ্টিপাতের কারণে এবং পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু বাদাম ক্ষেত নষ্ট হলেও সার্বিক ভাবে 'ভালো বাদাম' ঘরে তুলতে পেরেছেন বলে জানান কৃষকেরা।
সরেজমিনে পদ্মানদীর কাঁঠালবাড়ী, চরজানাজাত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফুটতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফসলের মাঠে নেমেছেন গৃহকর্তা। জমি থেকে বাদাম টেনে তুলছেন। আবার উঠানো বাদাম গাছ থেকে ছিড়ে পরিস্কার করছেন। কেউ কেউ আবার রোদে শুকাচ্ছেন সেই বাদাম। মাথার উপর প্রখর রোদ! তবুও যেন ক্লান্তি নেই রোদে পোড়া শরীরে! সকালের খাবার নিয়ে ফসলের ক্ষেতে এসেছেন কৃষাণ-কৃষাণী। দুপুর পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী ভাঙনের শিকার শিবচরের চরজানাজাত ইউনিয়নের বেশির ভাগ অংশই বিলীন হয়ে গেছে। বসবাসের প্রায় অযোগ্য এসব চরে কিছু মানুষ এখনও বসবাস করছেন ফসল ফলাতে। মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরগুলোতে ধানের পাশাপাশি কালোজিরা এবং বাদাম ভালো জন্মে। সারা বছরই চাষ হয় চরের জমিতে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান,'অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। বাদামও বেশ পুষ্ট(পরিপূর্ণ)। এর আগে কিছুদিন ভারী বৃষ্টির সময়ে নদীতে পানি বাড়লে কিছু ক্ষেত তলিয়ে বাদামের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে সে সময় পানি থেকে বাদাম তুলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া গেছে। এবার বাজারে বাদামের দাম ভালো রয়েছে। ৫/৬ হাজার টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। তাতে আমরা আশাবাদী।'
মোহাম্মদ হাওলাদার নামের এক কৃষক বলেন,'আমি প্রতি বছরই বাদাম চাষ করি। চরের মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযুক্ত। এ বছর ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে গতবার আমার জমিতে আরও ভালো বাদাম হয়েছিল। এবার বৃষ্টি আর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে।'
কৃষাণী কুলসুম বেগম বলেন,'জমির বাদাম এখন তুলতাছি। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই একত্রে কাজ করি। চরে প্রায় সবাইই এভাবে চাষাবাদ করে। এবার বাদাম ভালো হইছে। চরে বালু মাঠি থাকায় বাদামের ফলন ভালো হয়। আমরা চাষবাস কইরাই সংসার চালাই।'
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবচরে ৬শত ৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চর জানাজাত ইউনিয়নে চাষ হয়েছে ১শত ২০ হেক্টর জমিতে। বাজারদর ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে কৃষকদের লাভবান হবার সম্ভবনা রয়েছে।'
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন,'মাদারীপুরের শিবচরে চলতি বছরেও বাদাম চাষে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শিবচরের বিস্তৃর্ণ চরাচঞ্চলে বাদামের চাষ হয়। সন্যাসীরচর, বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ইউনিয়নে বাদামের চাষ ভালো হয়। এর মধ্যে শুধু চরজানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষকেরা লাভবান হবে আশা রাখি।'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









