জামালপুর পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৫১ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৬ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ বাজেটে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫২ টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টানা আরেক অর্থবছরের মতো এবারও কোনো ধরনের পৌরকর বৃদ্ধি ছাড়াই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) জামালপুর পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী খানম প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রায় ৫৩ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। নাগরিক সেবার সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুন পৌর ভবনের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে প্রশাসকের সহায়তা কমিটির বিশেষ সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট অনুমোদন করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪৫ টাকা এবং ব্যয় ১৯ কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকা। পানি সরবরাহ শাখায় আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৯২ হাজার ৬০৯ টাকা এবং ব্যয় ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া চলমান চারটি উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারের উন্নয়ন সহায়তা (এডিপি) তহবিল মিলিয়ে আয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং ব্যয় ২৯ কোটি ৪০ লাখ ৩৫ হাজার ৫২ টাকা।
এর মধ্যে এডিপি খাতে আয় ৬ কোটি ৫১ লাখ ৭ হাজার ৫১০ টাকা ও ব্যয় ৬ কোটি ৫০ লাখ ৮১ হাজার টাকা। গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আয় ৮ কোটি ৫৮ হাজার ৮৮২ টাকা ও ব্যয় ৮ কোটি ১৫ হাজার টাকা, কুয়েত অর্থায়নে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আয় ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৪৪৪ টাকা ও ব্যয় ৭ কোটি ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৪৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা (আবর্তক) তহবিলে আয় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬১ হাজার ১৫৬ টাকা ও ব্যয় ১ কোটি ৫১ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (LGCRRP) খাতে আয় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ২৪ হাজার ৬০৭ টাকা ও ব্যয় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৬০৮ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক মৌসুমী খানম বলেন, ‘‘পৌরসভার রাজস্ব তহবিল ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসরণ করে, শহর সমন্বয় কমিটি এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আয়-ব্যয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এবারের বাজেটে নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ, শহরের সড়কবাতি সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ এবং রাস্তাঘাট উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সময়মতো অর্থ ছাড় পাওয়া গেলে পরিকল্পিত উন্নয়নের সুফল পৌরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’’
সংবাদ সম্মেলনে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক, সহকারী প্রকৌশলী সুহেল মিয়া, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক মো. শরীফ উদ্দিন সোহাগ, প্রশাসকের সহায়তা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রশাসক পৌরবাসীর সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জামালপুর পৌরসভাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









