পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে গুরুতর আহত অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার এক ব্যক্তির (হায়দার) স্ত্রীর সঙ্গে রনি নামের এক স্থানীয় যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলছিল। সম্প্রতি বিষয়টি উজ্জ্বল নামের এক যুবকসহ কয়েকজনের সামনে প্রকাশ পায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জের ধরে হায়দার ও অভিযুক্ত রনি কথা বলার জন্য উজ্জ্বলের বাড়িতে যান। ওই সময় উজ্জ্বল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগানে কাজ করছিলেন। পরে তাঁরা বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উজ্জ্বল, তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তাঁর মা গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উজ্জ্বলের মায়ের হাত কেটে যায় এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে আঘাত লাগায় তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে।
এদিকে সংঘর্ষের একপর্যায়ে হায়দার ও তাঁর স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে হায়দার ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, তবে কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মারধর করা হয়নি।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গুরুতর আহত উজ্জ্বল ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উজ্জ্বলের মা নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, অন্য পক্ষের হায়দার ও তাঁর স্ত্রীও একই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সারেংকাঠি ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে থানায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









