রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের অন্তত ২০টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে।
বর্ষার শুরু থেকে সড়কের বিভিন্ন অংশে ক্ষয় ও দেবে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন ঝুঁকি বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কিছু অংশ দেবে গেছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। যানবাহনগুলো ওই অংশ দিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়কের অন্য পাশ ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কটি বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, তুষভান্ডার ও বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের চাপ, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় গর্তগুলো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক মিয়া বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পথচারী সোহেল মিয়া বলেন, রাতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। গর্তগুলো সহজে বোঝা যায় না।
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। বৃষ্টির কারণে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধস তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, সড়কের মূল সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিবার বর্ষায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









