মাদারীপুর জেলার শিবচরে সবজি চাষে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালচিং পদ্ধতি। কম খরচে এবং তুলনামূলক কম সময়ে অধিক ফলন হওয়ায় সবজি চাষীরা ঝুঁকছেন এই পদ্ধতির চাষাবাদে। গত কয়েক বছর ধরেই মালচিং পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে নানান রকম সবজি। লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে চাষাবাদ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে কৃষকেরা। কৃষি জমিতে মাটি সামান্য উঁচু করে 'বেড' তৈরি করেছেন। ওই বেড ঢেকে দিয়েছে মালচিং পেপার (এক রকমের পলিথিন) দিয়ে। নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ছিদ্র করে নানা জাতের সবজির বীজ বপণ করছেন। এ পদ্ধতিতে চাষ করছেন শসা, মরচি, লাউ, করলা, টমেটো, ঢেঁরসসহ নানা শাক-সবজি।
কৃষকেরা জানিয়েছেন,'এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে মাটিতে পোকা-মাকড়ের আক্রমন কম থাকে। খুব একটা সেচ দিতে হয় না। তাছাড়া সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ১০/১৫ দিন আগেই ফলন আসে। আর প্রথমবার বেড তৈরিতে একটু খরচ হয়। পরবর্তীতে একই বেডে ৩/৪ ধাপে চাষ করা যায়।'
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে ফলন বেড়েছে। এই পদ্ধতি মাটির আদ্রতা ধরে রাখে। আগাছা দমন করে। পোকামাকর নিয়ন্ত্রন রাখে। প্রথমে সার দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চাষ করা হয়। ইতোমধ্যে মরিচ, করলা এবং শসা চাষে এই পদ্ধতি ব্যপক জনপ্রিয়। অধিক ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে ঝুঁকছেন।
উপজেলার কাদিরপুর এলাকার কৃষক বলেন,'আমি ইউটিউবে প্রথম দেখি এই চাষাবাদ। পরে মাত্র এক বিঘা জমিতে শুরু করি শসা চাষ। প্রথমবারেই প্রায় দেড়শ মন শসা বিক্রি করি আমি।অল্প সময়ে খুবই ভালো ফলন হয়। বর্তমানে ত্রিশ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। শসা, করলা, মরচি, লাউ চাষ করেছি।'
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আলিমুজ্জামান বলেন,'শিবচরের প্রায় ২শত বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি চাষাবাদে খরচ কমায়। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব মালচিং পেপারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই পেপার মাটির সাথে মিশে গিয়ে সারের কাজ করে। পরিবেশবান্ধব মালচিং পেপারের প্রচলনও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়।'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









