পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর মো. আমিন উদ্দিন (শিক্ষার্থী) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করেছে দশমিনা থানা পুলিশ।
বৃহস্প্রতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে দশমিনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।উদ্ধার হওয়া আমিন উদ্দিন উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবোরহান এলাকার বাসিন্দা মো. কবির খানের ছেলে। তিনি সেন্টার বাজার নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
উদ্ধার হওয়া আমিন উদ্দিন উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবোরহান এলাকার বাসিন্দা মো. কবির খানের ছেলে। তিনি সেন্টার বাজার নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোরআন হিফজের জন্য আমিন উদ্দিনকে সেন্টার বাজার নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুদিন নিয়মিত পড়াশোনা করলেও পরে তিনি আর মাদ্রাসায় পড়তে চান না বলে বাবা-মাকে জানান। তবে পরিবার বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় গত শনিবার সকালে তিনি মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
দুপুরে খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে তার বাবা শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে খোঁজাখুঁজি করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সন্ধান না পেয়ে দশমিনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ঘোষেরহাট লঞ্চঘাটে এমভি ইয়াদ-১ লঞ্চের সিসিটিভি ফুটেজে আমিন উদ্দিনকে দেখা যায়। পরে বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর লঞ্চঘাটের সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। এ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. হেলাল করিমের দোকান থেকে আমিন উদ্দিনকে উদ্ধার করে দশমিনা থানা পুলিশ। থানায় নিয়ে গিয়ে তার বক্তব্য শোনার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আমিন উদ্দিন জানায়, তাকে জোর করে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে শিক্ষক তাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ করে সে। এ কারণে সে আর মাদ্রাসায় পড়তে চায়নি। সঙ্গে থাকা ৭০ টাকা নিয়ে সে ঘোষেরহাট লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে উঠে নুরাইনপুরে পৌঁছায়। সেখানে হেলাল করিম নামে এক ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দেন এবং পরে ঢাকায় নিয়ে যান।
কাপড় ব্যবসায়ী মো. হেলাল করিম জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে তিনি ছেলেটিকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। তার নাম-পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু বলেনি। পরে ঢাকায় যাওয়ার সময় ছেলেটি তার সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি মানবিক কারণে তাকে সঙ্গে নেন। কয়েকদিন নিজের দোকানে রাখেন এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ দেখে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং সঙ্গে সঙ্গে দশমিনাথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন। আমিন উদ্দিনের বাবা মো. কবির খান বলেন, "ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা থানায় জিডি করি এবং আত্মীয়স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি। পরে ওসির ফোনে জানতে পারি, আমাদের ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।"
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর আমরা বিভিন্ন সড়ক ও নৌপথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করি। প্রথমে চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট লঞ্চঘাট এবং পরে বাউফলের নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে ছেলেটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন থানার সহযোগিতাও নেওয়া হয়। বুধবার রাতে নুরাইনপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. হেলাল করিম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমিন উদ্দিনের মামা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর পুরো পরিবার উদ্বেগের মধ্যে ছিল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তাকে ফিরে পেয়েছি। এজন্য দশমিনা থানা পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









