চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় ১০ দিনের মাথায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, পারিবারিক ক্ষোভের জেরেই নিজের মা মজিদা বেগমকে হত্যা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে বিষয়টি জানান মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবীর হুসনাইন সানীব।
তিনি জানান, গত ২৫ জুন রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সংবাদের ভিত্তিতে কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়।
মাথার খুলির চুল খসে পড়েছিল এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ বন্য প্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। ঘটনাস্থলে পিবিআই ও সিআইডিকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মামলাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের নবাগত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। দলে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলসহ একাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে মো. জনি নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি পুলিশকে জানান, তার মা একাধিক বিয়ে করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত অবস্থায় মামার বাড়িতে নানা অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হন। সেই ক্ষোভ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন।
জনি আরও জানায়, গত ১৭ জুন ছেঙ্গারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে মজিদা বেগমকে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান জনি। পরে কলাবাগানের ভেতরে দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে তাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।হত্যার পর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।
মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান জানান, জনিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









