নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের একটি আদর্শ গ্রামের ৩৫টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ জিআই তারের বেড়া ও লোহার গেট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া দিয়েছিল স্থানীয় এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়া অপসারণের ব্যবস্থা করলে পরিবারগুলোর চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দকুজা নদীতীরবর্তী পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে গড়ে ওঠা আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা প্রায় ২২ বছর ধরে পাশের জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছেন। এটিই তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। তিন দিন আগে মাহমুদপুর গ্রামের প্রভাবশালী ও অবসরপ্রাপ্ত দারোগা মো. ইউসুফ আলী ও তাঁর লোকজন জিআই তারের বেড়া এবং লোহার গেট দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এতে আদর্শ গ্রামের অন্তত ৩৫টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জিআই তারের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে বেড়া কেটে পথটি উন্মুক্ত করা হলে অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি দেখতে পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে পথটি উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। যারা রাস্তা বন্ধ করেছেন, তাঁদের নোটিশ দিয়ে ডাকা হবে। প্রয়োজনীয় শুনানি শেষে আইন অনুযায়ী স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইউসুফ আলীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর বাড়িতে গেলেও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয়রা জানান, আপাতত চলাচলের পথ খুলে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের স্থায়ী সমাধান কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









