নোয়াখালী সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে বসতবাড়ির রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও জোরপূর্বক জমি দখল করে টয়লেটসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল হক বাবু ও তার ভাই মমিনুল হকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সময়ের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তা মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের দুই ছেলে নিজেদের দাবি করে রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে মাটি কেটে কয়েক ফুট গভীর গর্ত করে। পরে অবশিষ্ট অংশ জোরপূর্বক দখল করে টয়লেটসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে কয়েকটি পরিবার।
ভুক্তভোগী ইয়ামিন আরাফাত, মিজানুর রহমান ও সাজ্জাদুর রহমান রাতুলসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, চাকরির মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল হক বাবু অঢেল টাকা পয়সার মালিক বনে যান। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনি এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে তোয়াক্কা না করে দাপট দেখিয়ে অন্যের জমি এবং রাস্তা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। এনিয়ে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান গং ও শামসুল হক গংয়ের সম্মতিক্রমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কয়েকবার স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠক ও ভূমি পরিমাপ অনুষ্ঠিত হয়। পরিমাপে প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান গং ও শামসুল হক গংদের নিকট ১ ডেসিমেল জমি পাওনা হয়। কিন্তু তারা প্রতিপক্ষকে জমি ছেড়ে না দিয়ে গড়িমসি করার চেষ্টা করে। সম্প্রতি জোরপূর্বক রাস্তা দখল করে সেখানে টয়লেটসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের ছেলে মমিনুল হক বলেন, ‘‘সালিশদারগণ তাদের নিকট চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা না দেওয়ায় তারা এসব অভিযোগ করছেন।’’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আমির হোসেন রহিম বলেন, ‘‘বিষয়টি সামাজিক পর্যায়ে মীমাংসার কথা থাকলেও পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল হক বাবু সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা কেটে দখলের চেষ্টা করছেন।’’
জানতে চাইলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘‘জায়গা জমি বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য দু’পক্ষ জামানত রেখেছেন। কিন্তু সমাধানের আগেই শামসুল হক গংরা কাউকে তোয়াক্কা না করে রাস্তা কেটে ফেলেছে। এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’’
স্থানীরা মনে করছেন, বসতবাড়ির রাস্তা কেটে ও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









