ঝালকাঠির দিগন্ত জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। মধু সংগ্রহে হলুদের রাজ্য মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত। মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দোলাচালে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। শীতের সকাল কিংবা গোধূলি লগ্নে প্রকৃতি যেন নতুন করে জেগে ওঠে। মনে হয় হলুদ চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।
একটা সময় সরিষা চাষ অলাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা সরিষা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন সরিষার বাম্পার ফলনে। বিনামূল্যে পাওয়া উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার ফলনে, কৃষকের প্রশান্তির হাসি দীর্ঘ হচ্ছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে, এ বছর ভালো ফসল এবং ভালো দাম পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা। আগামীতে এ জাতের সরিষা চাষে কৃষকরা আরও আগ্রহী হবেন বলে তাদের ধারণা। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আগামীতে আরও সরিষার আবাদ বৃদ্ধির চিন্তা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যেন কেউ সবুজের গায়ে হলুদ আল্পনা দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে। সরিষা ফুলে ফুলে মৌমাছিরা মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছে।
কৃষক জাহাঙ্গীর (৪৩) জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে বারি -১৪ ও বিনা -৯/১০ জাতের সরিষা চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এ জাতের সরিষার চাহিদা বেশি এবং দামও ভালো পাওয়া যায়। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২৩ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৫০৮ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন








