কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে স্থাপিত দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরির অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলায় অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে গোমতী নদীর বেরিবাঁধ এলাকায় আনুমানিক তিন কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৫০০টি সোলার লাইট স্থাপন করা হয়। গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর হয়ে পালপাড়া পর্যন্ত সড়কে আলোর ব্যবস্থা হওয়ায় রাতের বেলায় নিরাপদে চলাচলের সুযোগ পান পাঁচথুবী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। তবে সময়ের ব্যবধানে একের পর এক সোলার লাইট চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ধাপে ধাপে প্রায় ২ শতাধিক সোলার লাইট খুলে নিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও লাইটের খুঁটিসহ খুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে রাত নামলেই সড়কের বড় একটি অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়।
এলাকাবাসী জানান, দ্রুত চুরি হওয়া সোলার লাইট উদ্ধার, পুনঃস্থাপন এবং কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হোক। সোলার লাইট চালু থাকাকালে রাতে চলাচল ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। কিন্তু বর্তমানে অন্ধকারের সুযোগে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।
পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহম্মেদ রাহুল বলেন, ‘‘মাদক ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মাদকসেবীদের একটি চক্র এসব সোলার লাইট চুরির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’’
চুরি হওয়া সোলার লাইট উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কটিকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘‘বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









