কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পৃথক দুটি পরিবারেরই ৭ জন সদস্য রয়েছেন।
ক্যাম্প প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাতে ভারী বর্ষণের সময় পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়লে ঘটনাস্থলেই রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং তাঁদের শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে ঘর চাপা পড়ে একরাম নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটি ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, রাত প্রায় ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যসহ চারজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা, তাঁর বোন তানজিনা আক্তার, মোহাম্মদ রিহান এবং তাঁর ভাই হারুনুর রশিদ। তারা সবাই ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, "ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দুই দিন এই ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









