গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন একটি সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। হাত দিয়েই রাস্তার কার্পেটিং তুলে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় স্থানীয় এলাকাবাসী এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ায় গণমাধ্যম কর্মীদের ‘চাঁদাবাজি মামলায়’ ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার ইয়াছিন শেখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলজিইডির ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)‘-এর আওতায় ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩০১ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২৬৫ মিটার দীর্ঘ শিকিরবাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া পর্যন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কার্যাদেশ পায় চুয়াডাঙ্গার ‘জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন গোপালগঞ্জের ঠিকাদার ইয়াছিন শেখ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের প্রায় প্রতিটি ধাপেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কারিগরি অনিয়ম করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি স্থানে কার্পেটিংয়ের স্তর হাতের সামান্য স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ২৫ মিলিমিটার পুরুত্বের কার্পেটিং করার কথা থাকলেও কোথাও তা মানা হয়নি। কার্পেটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিটুমিন (ট্যাক কোট) যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে মাটির শোল্ডার ও গাইড ওয়ালের কাজেও চরম ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আমতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তুহিন আহমেদ খান তাঁর ফেসবুক পেজে একটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করলে এই অনিয়মের চিত্র দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, "শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু ও পোড়া মাটির খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এই অনিয়মের বিষয়ে কিছু বললেই আমাদেরসহ সাংবাদিকদের নামে চাদাঁবাজি মামলায় ফাসানোর ভয় দেখান ঠিকাদার ইয়াসিন শেখ।" শিক্ষানবিশ আইনজীবী বেলাল হোসেন বলেন, এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির বাইরে একটি স্বাধীন কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করে এর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। (এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি)।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, "সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।"
এলজিইডির গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক বলেন, "সড়কটির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের একটি কারিগরি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। তদন্তে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারকে অবশ্যই নিজস্ব খরচে নতুন করে সংশোধনী কাজ করে দিতে হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









