কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে ঘুমাতে যাওয়ার পর সকালে নিজ ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গট্রিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রতন (২০) একই গ্রামের হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। তাঁর দুই মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার গভীর রাতে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান রতন। সকালে দীর্ঘ সময় ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যরা জানালার ফাঁক দিয়ে তাঁকে ঘরের ভেতরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুমারখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
নিহত রতনের বাবা হোসেন মিস্ত্রি বলেন, ‘ছেলে ব্রাজিল সমর্থক ছিল। রবিবার রাতে খেলায় ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পর তার মন খারাপ ছিল। এরপর নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সকালে উঠতে দেরি হলে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় জানালা দিয়ে দেখতে পাই, গলায় ওড়না দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট করে আত্মহত্যার কারণও বলতে পারছি না।’
স্বজনদের ভাষ্য, বছরখানেক আগে রতন বিয়ে করেন। বাড়ির পাশেই শ্বশুরবাড়ি। কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রী সেখানেই আছেন। ঘটনার সময় রতন ঘরে একাই ছিলেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “আত্মহত্যা একটি মানসিক রোগ। একজন ব্যক্তি একটি টিমকে সমর্থন করতেই পারেন। তাই বলে পছন্দের টিম হেরে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছেন, এমনটাও নিশ্চিত নয়। নিহত রতনের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের আবেদন করা হয়। মৃত্যুর বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









