তিন দিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোলার উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী বিচ্ছিন্ন চরগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল থাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে নৌ-সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বেশ কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোলা-লক্ষ্মীপুর, চরফ্যাশন-মনপুরা, তজুমদ্দিন-মনপুরা এবং দৌলতখান-আলেকজেন্ডার রুটসহ বিভিন্ন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভারী বর্ষণের ফলে জেলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলার প্রায় সব এলাকাসহ লালমোহন, তজুমদ্দিন, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান ও চরফ্যাশনের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজ না থাকায় রিকশাচালক, দিনমজুর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকার বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতেও বেগ পেতে হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









