"করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস"-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘জেলা ফল মেলা’। কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ই জুলাই) সকালে ‘জেলা ফল মেলা’য় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে এই ফল মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান।
উদ্বোধন শেষে মেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কৃষক এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপপরিচালকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, "আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে ফলের ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের দেশের ফল চাষ বৃদ্ধি করতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এই মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দেশীয় ও পুষ্টিকর ফল চাষে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবে।"
প্রধান অতিথি, নিরাপদ ফল উৎপাদন, রাসায়নিক মুক্ত ফল বাজারজাতকরণ এবং তরুণ প্রজন্মকে ফল চাষে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলাকে ফল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মেলার আয়োজক কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, "কুষ্টিয়ার মাটি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা কৃষকদের নিয়মিত উন্নত জাতের ফল চাষের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি ও উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত হরেক রকমের ফল ও ফলের চারা প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।"
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, হরেক রকমের আম, কাঁঠাল, জাম, লটকন, পেয়ারা, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ফলের সমাহার ঘটেছে স্টলগুলোতে। প্রথম দিনেই মেলা প্রাঙ্গণে ফলপ্রেমী ও চারা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘জেলা ফল মেলা’ ৯ জুলাই পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









