বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিতে ভিজছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা দশমিনা। কোথাও মাঝারি, কোথাও ভারী বর্ষণে জনজীবন যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি নীরব দুর্ভোগে পড়েছে প্রকৃতির মুক্তচর পাখিরাও।
অবিরাম বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক পাখিকে লোকালয়ের দিকে ছুটে আসতে দেখা গেছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছে ঘরের কার্নিশে, কেউ টিনের চালার নিচে, আবার কেউ বারান্দা কিংবা দোকানের ছাউনিতে। অনেক পাখিকে ভিজে অবস্থায় গাছের ডালে দীর্ঘ সময় বসে থাকতেও দেখা গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় খাদ্য সংগ্রহ ও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা জানান, বর্ষার বৃষ্টি মানুষের কাছে স্বস্তির হলেও পাখিদের জন্য তা অনেক সময় দুর্ভোগ ডেকে আনে। টানা বৃষ্টিতে তাদের বাসা ভিজে যায়, অনেক ছানা বাসা থেকে পড়ে যায় এবং ঝড়ো বাতাসে অসংখ্য পাখি আহত হয় কিংবা আশ্রয় হারায়। এমন পরিস্থিতিতে তারা সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বৃষ্টির দিনে পাখিদের বাড়ির বারান্দা, কার্নিশ বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দিতে এবং সম্ভব হলে শুকনো খাবার ও পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করতে। একই সঙ্গে অকারণে গাছ না কাটা এবং আহত পাখি দেখলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
দশমিনার এক শিক্ষার্থী জানায়, "আমরা যখন বৃষ্টির দিনে নিরাপদে ঘরে থাকি, তখন ছোট ছোট পাখিগুলো ভিজে কষ্ট পায়। অনেক সময় তাদের বাসা নষ্ট হয়ে যায়, খাবারও খুঁজে পায় না। আমরা সবাই যদি একটু সহানুভূতিশীল হই, তাহলে অনেক পাখির জীবন রক্ষা করা সম্ভব।"
প্রকৃতি প্রেমিকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ায় ছোট পাখিদের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে তারা তুলনামূলক নিরাপদ ও শুষ্ক পরিবেশের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। অন্যদিকে পরিবেশ-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় এমন দৃশ্য এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
তাদের মতে, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশাপাশি বন্য পাখিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক কিংবা খোলা জায়গায় ছোট ছোট পাখির আশ্রয়স্থল নির্মাণ এবং দেশীয় গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে দুর্যোগকালে বহু পাখির জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
টানা বৃষ্টির এই চিত্র আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাত শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীই এর প্রভাব বহন করে। তাই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষের সচেতনতা এবং সহমর্মিতাই হতে পারে পাখিদের নিরাপদ ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









