বান্দরবানের তিন্দুতে আটকে পড়া শতাধিক পর্যটক নিরাপদে থানচিতে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটক গাইডের সদস্যরা কয়েকটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে তাদের থানচি সদরে নিয়ে আসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘‘ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে থানচিতে পানি বেড়ে সাঙ্গু নদী বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আটকে পড়া শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করে থানচি সদরে আনা হয়। পরে সড়কপথে জেলা শহরের উদ্দেশে পাঠানো হয়।’’
অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়ায় পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ফলে তিন্দুতে আটকে পড়েন শতাধিক পর্যটক।
জানা যায়, গত রবিবার থেকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার রুমা-থানচি, লামা-সুয়ালক সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ছোটোখাটো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও জেলা শহরের বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, বনরুপাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন। জেলার সাতটি উপজেলায় খোলা হয়েছে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র।
এদিকে অব্যাহত বর্ষণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা শহরের উজানী পাড়া, মধ্যমপাড়া এলাকায় নদী তীরবর্তী বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘‘বৈরী আবহাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। থানচিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









