দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য প্রজেক্টর না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে ফাঁসাতে এবং সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল ছত্রাকযুক্ত পাউরুটির ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন সাংবাদিক বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে এই ন্যাক্কারজনক অপপ্রচারের তথ্য উঠে আসে।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করা এবং তাদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারিভাবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে রুটি, কলা, ডিম, বিস্কুট ও দুধ বিতরণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে আসছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদারকি, ইএসডিও কর্মীদের একনিষ্ঠতা, স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্য প্রতিদিন উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ দেখে গ্রহণ এবং শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়ে থাকে। এতদিন এ বিষয়ে কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটলেও, সম্প্রতি ছত্রাকযুক্ত ৩টি পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ তুলে মোবাইলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ সাহাবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রতিদিন মেয়াদের তারিখ দেখে খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। ঘটনার দিনও তারিখ দেখেই রুটি গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এতে কারও কোনো অভিযোগ না থাকলেও কয়েকজন যুবক বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগের ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি এনে স্কুল চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। সব শিক্ষার্থী টাটকা পাউরুটি পেলেও শুধুমাত্র ওই অভিযোগকারীরা কীভাবে কয়েকদিন আগের রুটি পেল, তা নিয়ে বিস্ময় দেখা দিয়েছে।”
প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান আরও বলেন, “চলমান ফুটবল খেলা দেখার জন্য স্থানীয় কয়েকজন যুবক স্কুলের প্রজেক্টর নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। আমি সরকারি প্রজেক্টর বাইরে দিতে অস্বীকার করায় তাঁরা আমার সম্মানহানি করার জন্য বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগের বাসি ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি এনে এই ন্যাক্কারজনক নাটক সাজিয়েছেন।”
স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব, চতুর্থ শ্রেণির সানজিদ ও মায়া বলে, প্রতিদিন তাদের ভালো মানের খাবার দেওয়া হয়। অভিযোগকারীরা বাড়ি থেকে বাসি রুটি এনে ছবি তুলেছে। আমরা কেউ বাসি রুটি না পেলেও তারা কীভাবে পেল? উপস্থিত অভিভাবকরাও বলেন, প্রতিদিন ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা হলেও কয়েকজন মিলে অসৎ উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর দিনাজপুর জেলা ম্যানেজার (স্কুল ফিডিং) শাহ মোঃ আমিনুল হক বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দেখি সরকারের একটি সফল উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং হীনস্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় বহিরাগতরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করে থাকি। তাই আমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যতিক্রম ঘটার কোনো সুযোগ নেই।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমার নিকট কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। প্রতিটি স্কুলে কমিটির মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। তাই সেখানে বাসি-পচা বা মানহীন খাদ্য সরবরাহের সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি নিজে বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে দেখেছি উপজেলার কোথাও এরকম ঘটেনি। উপজেলার সব স্কুলের শিক্ষার্থীরা টাটকা রুটি পেলেও একটি স্কুলে মাত্র তিনটি ছত্রাকযুক্ত রুটি পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। খেলা দেখার জন্য স্কুলের সরকারি প্রজেক্টর না দেওয়ায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা অন্য কোনো বিষয় প্রমাণিত হলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









