পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় একই রাতে পৃথক তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের অলংকারকাঠি গ্রাম এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছারছীনা এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল অলংকারকাঠি গ্রামের তপু কাজীর বাড়ির পেছনের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতদের কয়েকজনের মুখে মাস্ক ও গামছা বাঁধা ছিল। তারা তপু কাজীকে গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করে এবং দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ ৩ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মোবাইল ফোন লুট করে।
এরপর একই দল পাশের বাড়িতে থাকা তপু কাজীর ভাই লিটু কাজীর ঘরে ঢুকে পরিবারের দুই মেয়ের হাত বেঁধে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। সেখান থেকে তারা নগদ ১২ হাজার টাকা, চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ছয় ভরি ওজনের রুপার দুটি নুপুর, দুটি রুপার চেইনসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
একই রাতে রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে ডাকাত দলটি স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছারছীনা গ্রামের আব্দুস সালামের বাড়িতে হানা দেয়। কাঠের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে একটি আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা, প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাত দলের সদস্যদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল এবং নিজেদের মধ্যে একজনকে ‘মাস্টার’ নামে সম্বোধন করছিল।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “ডাকাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
একই রাতে পরপর তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









