চট্টগ্রামের রাউজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে প্লাবিত হওয়া এলাকাসমূহে পানি কিছুটা কমলেও এখনো পানি বন্দী দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে কয়েক হাজার পরিবার। গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যার প্রভাবে নদ-নদীর পানি আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের সময় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছাড়াও বিস্তীর্ণ এলাকা কোথাও হাঁটু কোথাও বুকসমান পানিতে নিমজ্জিত আছে। এছাড়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নিছু এলাকাসমূহে দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাউজানের ডাবুয়া, চিকদাইর, নোয়াজিষপুর, হলদিয়া, গহিরা, বিনাজুরী, পশ্চিম গুজরা, পূর্বগুজরা, রাউজান সদর ইউনিয়ন, কদলপুর, পাহাড়তলী, বাগোয়ান, নোয়াপাড়া, উরকিরচর, পৌর এলাকার সুলতানপুর, ছিটিয়াপাড়া, নন্দীপাড়া,জানালিহাট,কাজীপাড়া, শরীফপাড়া, বেরুলিয়া, ফকিরহাট বাজার, মুন্সিরঘাটা, কুণ্ডেশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা ময়লা আবর্জনায় ভরাট থাকায় পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যত্রতত্র গড়ে উঠা স্থাপনাগুলোতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যাবস্থার অপ্রতুলতার কারণে অল্প বৃষ্টিটেই সৃষ্টি হচ্ছে নাজুক পরিস্থিতির।
চলমান বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে ড্রেনেজ ব্যাবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কারণে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া রাউজানের ১৪টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারগুলোর অধিকাংশ বাজারে ড্রেনেজ ব্যাবস্থা না করেই গড়ে উঠেছে বহুতল বানিজ্যিক স্থাপনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাউজানে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দক্ষিণ রাউজানের মদুনাঘাট এলাকায় পানির স্রোতে হালদা নদীর উপর নির্মিত মদুনাঘাট পুরাতন ব্রীজের গোড়ালির মাটি সরে গেছে। এছাড়া মদুনাঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে তাৎক্ষণিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলার ডাবুয়া খাল, ডোমখালি খাল, কাগতিয়া খাল, সর্তাখালের তীব্র স্রোতে এলাকাসমূহের অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের উপর দিয়ে পানির স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাহাড়তলী, হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের বেশ অংশে বিটুমিন ও কংক্রিটের আস্তরণ ধসে পড়ায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এখনো অভ্যন্তরীণ অনেক সড়কে হাঁটু সমান পানি। মাত্রাতিরিক্ত পানি থাকায় অনেক সময় সড়কে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে৷ রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় মাছচাষের পুকুর, দীঘি ডুবে যাওয়ায় অনেক মৎস্যচাষী নিঃস্ব হওয়ার পথে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে রাউজানের সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এলাকার দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সকলকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দেন।
এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো।
উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে রাউজানের সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনার দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আমরা অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।
উত্তরজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, এমপির নির্দেশনায় আমরা বুক সমান পানি ডিঙিয়ে দুর্গত পরিবারগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।
উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহজান শাহিল ও সাধারণ সম্পাদক ছোটন আজম বলেন, স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনা মতে উপজেলা যুবদলের নেতা-কর্মীরা বন্যা কবলিত এলাকা সমূহে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মানবিক সংগঠন টিম মানুষ যে'র সংগঠক মোঃ রাশেদ বলেন, অতীতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে টিম "মানুষ যে " পরিবারের প্রতিটি সদস্য একযোগে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।
পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, পৌর এলাকায় বন্যাদূর্গত বাসিন্দাদের মাঝে পৌরসভার পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পৌর এলাকার বেরুলিয়া, বণিকপাড়া, ডেপুটি বাড়ি, সৈয়দ বাড়ী, জলদাশপাড়া, মোবারকখীল সহ বিভিন্ন জায়গায় পৌরসভার পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, রাউজানে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ আছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসনের সার্বিক নির্দেশনায় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পানি কমে গেলে জরুরি ভিত্তিতে সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









