ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অপরদিকে এক আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আরিফ মিয়া (১৯), হাসান রাকিব (২০) এবং আবু সাইম (১৮)। অপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ (১৬)।
পৃথক দুটি আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।
এ সময় তিনি রায়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, ‘‘ঘটনার দিন কংশ নদীর তীরের নির্জন কলাবাগানে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য মাটির নিচে মাথা পুঁতে রাখা হয়। যা আসামি ঠান্ডা মস্তিষ্কে করেছে। এর প্রেক্ষিতেই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।’’
মামলায় আসামি পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড. খন্দকার বদরুল আলম এবং আসামি পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এড. মকবুল হোসেন। এছাড়াও মামলায় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এড. মজিবুর রহমান।
রায় ঘোষণার পর নিছামনির বাবা-মা ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি আর কোনো শিশু যেন এমন নৃশংসতার বলি না হয়।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ জোরপূর্বক আসামিদের জবানবন্দি নিয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’’
জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশের অভিযানে ৪ আসামি গ্রেপ্তার হলে তারা ঘটনায় সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
এরই মাঝে মামলার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ২৩ জুন ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এরপর টানা কয়েক দিন ১৯ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে শুনানিতে উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









