উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে চারটিতেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে জেলার শাল্লা উপজেলার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওই অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি মারকুলি স্টেশনে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭.২৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে।
এ দিকে, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ সদর স্টেশনে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৩০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে যা বিপদসীমার ৫০ সেমি নিচে। ছাতক স্টেশনে সুরমার পানি ২১ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮.৩৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে, যা বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। দিরাই উপজেলায় পুরাতন সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৮১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ৭.৭৪ মিটার নিচে রয়েছে। তবে জেলার অন্য সব স্টেশনে পানি বাড়লেও সীমান্তঘেঁষা যাদুকাটা নদীর পানি লাউড়েরগড় স্টেশনে ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) এমদাদুল হক বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি ও দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি শাল্লার মারকুলি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। জেলার বাকি প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়লেও তা এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে অন্যান্য নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে।
তিনি হাওরাঞ্চলের সুরক্ষার বিষয়ে আরও যোগ করেন, শাল্লাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নদী তীরবর্তী জনপদ ও ফসল রক্ষা বাঁধগুলোর ওপর আমাদের সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারি রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্ত এলাকা লাউড়েরগড়ে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া জেলা সদরে ৭৭ মিলিমিটার, দিরাইয়ে ২০ মিলিমিটার এবং ছাতকে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









