সাতক্ষীরায় পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুব জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ফিরোজ শাহ্কে দলীয় পদ ও সাংগঠনিক সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১২নং বল্লী ইউনিয়ন শাখার আমীর মো: মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
অব্যাহতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ ফিরোজ শাহ জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া শাখার ১২ নং বল্লী ইউনিয়ন শাখার যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে পরকীয়া প্রেমিকাসহ আপত্তিকর অবস্থায় নিজের স্ত্রীর হাতে নাতে ধরা পড়েন যুব জামায়াত নেতা ফিরোজ শাহ। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত সাধারণ জনতার সম্মুখে ফিরোজের স্ত্রীর সোনিয়া খাতুনের সঙ্গে ফিরোজ ও পরকীয়া প্রেমিকা সালমা খাতুনের মধ্যে তুমুল হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করেন সেখানে উপস্থিত সাধারণ জনগণ। যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর দলটির ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনার পরদিনই এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা সংগঠনের নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, ফিরোজ শাহ দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরা সদরের ১২নং বল্লী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি পদসহ সংগঠনের সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে এবং চলমান বিশদ তদন্ত সাপেক্ষে তিনি চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। একই সাথে সংগঠনের সকল স্তরের দায়িত্বশীল, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, সাতক্ষীরা শহরের কালেক্টর স্কুলের শিক্ষিকা সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে যুব জামাত নেতা মোঃ ফিরোজ শাহের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও স্কুল ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে । এই অবহেলার কারণে গত ৮ জুলাই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সালমা খাতুন জোর তৎপরতা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া, যুব জামাত নেতা মোহাম্মদ ফিরোজ শাহের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আত্মসাৎ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









