নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি মহিলা মাদ্রাসায় কথিত ‘জ্বীনের আছর’কে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় তাদের হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, এটি ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বা গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার ঘটনা হতে পারে।
ঘটনাটি উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ দিন আগে এক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। এরপর একে একে আরও শিক্ষার্থীরা একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হন। একদিনেই সাতজন অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খালেদ হাসান মোরসাদেক দাবি করেন, পার্শ্ববর্তী নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জ্বীন চালান করার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দুজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনো রোগ শনাক্ত হয়নি। পরে কোরআনের আয়াত পাঠের পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাদের সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ বলেন, জ্বীন চালানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা করানোর পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা দুঃখজনক।’
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি বাড়ছে এবং অনেকেই মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাদল সাহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’-এর কারণে ঘটতে পারে। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নূরে আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









