লক্ষীর মা। থালাতে অল্পকিছু মাছ মাথায় নিয়ে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি ঘুরেফিরে মাছ বিক্রির অল্প রোজগারে সংসারে জোগান দিত। পরিবারে দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে শংকর গত ২৭ মে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে ফেরার পথে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নিহত হন। একমাত্র জীবিত বড় ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বন্যার কবলে বন্ধ আয়-রোজগার।
একদিকে পুত্র শোকে কাতর জীবনে নতুন করে ভর করেছে দুর্বিষহ সময়। শুধু লক্ষীর মা নয়, রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জলদাশ পাড়া গ্রামের সতীশ মাস্টারের বাড়ির প্রতিটি পরিবারেই যেন চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। এই বাড়ির অনেকেই এখন কর্মহীন। বাড়ির উঠোনে হাঁটুসমান পানি। দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেকেই এখন বাড়িতে পার করছে অলস সময়।
রাউজানের সসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন পানিবন্দি এই বাড়ির বাসিন্দাদের। সংকটকালীন সময়ে ত্রাণের এই একটি প্যাকেটেই কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলোতে।
পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের জলদাশপাড়ার এই দৃশ্যটি যেন রাউজানের চলমান বন্যা পরিস্থিতির খণ্ডচিত্র। রাউজান পৌর এলাকার বেশ কিছু ওয়ার্ড আর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নিম্ন এলাকাগুলোতে পানিবন্দি হয়ে এক দুর্বিষহ জীবন পার করছে অনেক পরিবার।
দিনে এনে দিনে খায় এমন নিম্ন আয়ের লোকজন পড়েছে চরম বেকায়দায়। অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ অনেক সড়ক এখনো পানিতে নিমজ্জিত। অনেকের উঠোনে হাঁটুসমান পানি। অনেকের বসতঘরেও ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। এমন অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষ পার করছে কঠিন সময়।
রাউজানের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দুর্গত এলাকায় গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। নেতার নির্দেশে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা স্ব-স্ব এলাকার বন্যাকবলিত স্থানগুলোতে গিয়ে অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট। রাউজান উপজেলা প্রশাসন, রাউজান পৌরসভার পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত এলাকাসমূহে বিতরণ করা হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ চলছে গত কয়েকদিন ধরে।
মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে নিম্ন আয়ের লোকজন। রাউজান পৌরসভার প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমা স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে রাউজান পৌরসভার বন্যাকবলিত এলাকাসমুহে এক হাজারের অধিক পরিবারে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করেন।
পৌর প্রশাসক জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকায় এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘‘বন্যা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’’
এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে পৌর এলাকা ও রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়নে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনব্যাপী মানবিক কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকাসমুহে রান্না করা খাদ্য বিতরণ করেছে মানবিক সংগঠন টিম ‘মানুষ যে’। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত এলাকাসমুহে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান আছে।
কঠিন এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তায় যেন বন্যাদুর্গত এলাকার খেটে খাওয়া, নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









