৫০ বছরে অনেক বন্যা চোখে দেখেছি এবারের মতো ভয়াবহ বন্যা আর দেখিনি। এমনই এক বন্যার মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়াবাসী। টানা ৫ দিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া এলাকায় বেগমা খাতুনের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে, এছাড়াও প্রায় ৭/৮ টি মাটির ঘর, সেমিপাকা ঘর ভেঙে পড়েছে। প্রায় দেড় হাজার মানুষের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগে দিন পার করছেন এখানকার স্থানীয়রা।
এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
জানা গেছে, টানা বর্ষণে পাহাড়ি নদী সাঙ্গু, পাঠানিপুল, বরুমতি খালসহ বিভিন্ন খালের বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেতে অন্তত কয়েক হাজার হাজার মানুষ গৃহছাড়া হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। কোনো কোনো এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো নষ্ট হয়ে পড়েছে।
বন্যার্তরা জানান, গত ৫০ বছরে অনেক বন্যা দেখেছি। এমন বন্যা আর দেখিনি। যেসব এলাকায় পানি উঠতে দেখেননি, সেসব এলাকা অন্তত ৫ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে আছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পুরোপুরি নামতে কত সময় লাগে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে। এবং পানিতে আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় পানিবন্দি মানুষরা না খেয়ে আছেন, সেদিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ত্রাণ বিতরণ করছি। বন্যা পরিস্থিতি যতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক না হবে, ততদিন পর্যন্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









