দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
সকালে কাউখালী থেকে স্পিডবোটে নদীপথে সফর শুরু করে সচিব ও তার সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেছারাবাদ উপজেলার নাপিতখালী ও সোহাগদল এলাকার সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী ফেরিঘাট এবং সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
পরিদর্শনকালে সেতু নির্মাণের কারিগরি দিক, নদীর নাব্যতা, যানবাহনের চাপ, যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সন্ধ্যা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে নেছারাবাদ, কাউখালী, নাজিরপুর ও বানারীপাড়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি নেছারাবাদকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদার বলেন, দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নেছারাবাদ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। নদীটি কার্যত পুরো উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। ফলে একটি সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা।
তিনি আরো বলেন, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর নির্বাচনের আগেই এ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উপজেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর উদ্যোগেই সন্ধ্যা নদীর ওপর স্বপ্নের সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ নেবে।
স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান বলেন, নেছারাবাদ উপজেলা সারা বাংলাদেশের মধ্য ব্যবসা সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে ব্রীজ নির্মানের উদ্যেগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ব্রীজ নির্মান হলে উপজেলার মানুষের মধ্য একটা মেলবন্ধন হবে। আরো গতিশীল হবে এ অঞ্চলের ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ বলেন, পিরোজপুর জেলার মধ্যে নেছারাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী উভয়েই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসেছি।
তিনি আরো জানান, আশা করছি আগামী আট মাসের মধ্যে ব্রীজ নির্মানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর প্রকল্পের ব্যয়, সেতুর দৈর্ঘ্যসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করে নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। বড় ধরনের সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারিগরি ও অর্থনৈতিক তথ্য যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগে। সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হলে পরবর্তী অনুমোদন সাপেক্ষে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সচিবের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম আরও গতি পাবে এবং গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এর নিরলস চেষ্টায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এ সেতু শুধু নেছারাবাদের নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









