বর্ষাকাল কিংবা অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় সৌন্দর্যচর্চার নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কারণ বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে গেলে ত্বকে ঘাম ও তেল নিঃসরণ বাড়ে। এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, র্যাশ ও ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার দীর্ঘ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকলে ত্বক পানিশূন্যও হয়ে পড়তে পারে। তাই এ সময় সৌন্দর্যচর্চা হওয়া উচিত হালকা, পরিচ্ছন্নতা-নির্ভর এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী। অনেকেই মনে করেন, আর্দ্র আবহাওয়ায় ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। তবে এটি একটি ভুল ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী ক্রিমের পরিবর্তে জেল বা ওয়াটার-বেইজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্র থাকে, আবার অতিরিক্ত তৈলাক্তও লাগে না। ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বজায় রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি।
ক্লিনজিংয়ে বাড়তি গুরুত্ব
আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম, ধুলাবালি ও অতিরিক্ত তেল ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুবার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়া বা কড়া ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না
বর্ষায় অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করে দেন। অথচ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেঘ ভেদ করেও ত্বকে পৌঁছায়। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর পুনরায় সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন।
মেকআপে মিনিমাল ট্রেন্ড
এ সময় ভারী ফাউন্ডেশন বা ঘন মেকআপ সহজেই গলে যেতে পারে এবং ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে ব্রণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার, বিবি ক্রিম বা হালকা বেইজ মেকআপ ব্যবহার করাই ভালো। নন-কমেডোজেনিক, অর্থাৎ লোমকূপ বন্ধ করে না—এমন প্রসাধনী বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চুলের যত্নেও সতর্কতা
আর্দ্র পরিবেশে মাথার ত্বকে ঘাম বেশি জমে। ফলে খুশকি, চুলকানি ও ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বৃষ্টিতে ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব চুল পরিষ্কার করে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখা ঠিক নয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ব্যবহারও এ সময় এড়িয়ে চলা ভালো।
সিনথেটিক পোশাক এড়িয়ে চলুন
আঁটসাঁট বা সিনথেটিক কাপড়ের পরিবর্তে সুতি এবং বাতাস চলাচল করতে পারে—এমন পোশাক পরলে ত্বক স্বস্তিতে থাকে। এতে ঘাম জমে র্যাশ ও ঘামাচির ঝুঁকিও কমে।
সূত্র : আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, মায়ো ক্লিনিক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









