গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মওলানা ভাসানী সেতুর চিলমারী এলাকার সংযোগ সড়কে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর্চ ব্রিজের ঠিক পাশেই তৈরি হওয়া এই গর্তের কারণে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারী ও যানবাহন। যেকোনো মুহূর্তে সড়কটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
উদ্বোধনের মাত্র দেড় বছরের মাথায় সড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির কারণেই এত দ্রুত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ‘স্লোপ ড্রেন’ না থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এই গর্ত তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণের ফলে আর্চ ব্রিজের সংযোগস্থলের মাটি ধসে এই বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মওলানা ভাসানী সেতুর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা ফেলে গর্তের আশপাশ বেঁধে দিয়েছেন। তবে তা স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এখনো ঝুঁকি রয়েই গেছে।
ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন আর্চ ব্রিজটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করেন। সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী মনিরা খাতুন বলেন, "হাতিরঝিলের মতো সুন্দর এই ব্রিজের পাশে এমন বিশাল গর্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এত তাড়াতাড়ি সড়কটি নষ্ট হবে তা কেউ ভাবেনি। এর জন্য নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিই দায়ী।"
ঢাকাগামী বাস চালক আনছার আলী জানান, ব্রিজের ঠিক একটি বাঁকের মুখে এই গর্তটি হওয়ায় গাড়ি ঘোরানো বা পার করা অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "কুড়িগ্রামের সাথে গাইবান্ধার যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। নির্মাণের মাত্র দেড় বছরের মাথায় এমন ভাঙন এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আমি দ্রুত এটি স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী জানান, মূলত টানা ভারী বর্ষণের কারণেই এই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা খবর পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা দিয়ে চারপাশ বেঁধে দিয়েছি। এছাড়া দুর্ঘটনা এড়াতে ওই স্থানে সার্বক্ষণিক লোক মোতায়েন করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









