পটুয়াখালীর কুয়াকাটা–সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির দুটি ‘সিংহ মাছ’ বা ‘লায়নফিশ’। রঙিন ডোরাকাটা ও পাখনা ছড়ানো মাছ দুটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশের উপকূলে এই মাছের দেখা মেলা বেশ বিরল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত শনিবার গভীর রাতে এফবি জাবের নামের মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা মাছ দুটি পান। দুটি মাছের ওজন প্রায় ৭৫০ গ্রাম। ট্রলারের মাঝি আসাদ উদ্দিন বললেন, এমন মাছ তিনি আগে কখনো দেখেননি।
মাছ দুটি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কলাপাড়ার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিশ’ নামের আড়তে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে মাছ দুটি দেখতে আড়তে ভিড় করেন অনেকেই।
আড়তের মালিক মোহাম্মদ সোহাগ মাছ দুটি পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে মোট তিন হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেন। মাছ দুটি কিনেছেন ছগির আকন নামের একজন। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় তিনি এগুলো কিনেছেন বলে জানালেন। এগুলো সংরক্ষণের ইচ্ছা তাঁর।
মাছ দুটির ছবি দেখানো হয়েছিল ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলীকে। তিনি বলেন, এগুলো স্কর্পিয়নফিশ পরিবারের লায়নফিশ। স্থানীয়ভাবে একে রঙ্গিলা, সিংহ রঙ্গিলা বা বাঘা মাছও বলা হয়।
এই মাছের দেহজুড়ে লালচে-বাদামি ও সাদা ডোরা। পিঠে খাড়া সূচালো কাঁটা। মাছটিকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এ মাছের পিঠের, পায়ু ও পাখনার কাঁটার গোড়ায় বিষগ্রন্থি থাকে। কাঁটার আঘাতে তীব্র ব্যথা হয়। আঘাতের জায়গা ফুলে যেতে পারে। প্রদাহ হতে পারে। মাছ মারা যাওয়ার পরও কাঁটা বিপজ্জনক। তিনি জেলে ও আড়তদারদের সতর্কতার সঙ্গে মাছটি ধরার পরামর্শ দেন।
এই শিক্ষক বলেন, মাছটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রজাতি। বঙ্গোপসাগরেও তাদের বিচরণ আছে। এটি আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। তবে বাংলাদেশের জলসীমায় এটি বহিরাগত নয়। এ কারণে কুয়াকাটায় এ মাছ ধরা পড়া নতুন কোনো হুমকি নয়।
উপকূলে এ মাছ সচরাচর দেখা যায় না মন্তব্য করে কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কাঁটা ও বিষাক্ত অংশ অপসারণ করলে এ মাছ খাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ মাছ খাওয়ার প্রচলন আছে। এর মাংস সাদা ও সুস্বাদু।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









