নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের বালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের গ্রামীণ পাকা সড়ক বেসানী নদীর স্রোতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়, সড়ক এবং আশপাশের জনবসতি রক্ষায় দ্রুত ব্লক দিয়ে টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে দেখানো হয়।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করলে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়নি। তবে নদীর তীরবর্তী হওয়ায় বালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জ্ঞানাদানগর ও হরদমার বিলহরিবারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থায়ী সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা সড়ক ঘেঁষে বেসানী নদীর প্রবাহ চলমান। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও নদীর স্রোতে রাস্তার পাশের কাঁচা মাটি ক্ষয় হয়েছে। ফলে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একইভাবে জ্ঞানাদানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে আত্রাই নদী এবং হরদমা বিলহরিবারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হরদমা খালের প্রবাহ রয়েছে। তিন জায়গারই স্থানীয়দের মতে, তিনটি বিদ্যালয়ের সামনেই ব্লক দিয়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি থেকেই যাবে।
বালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এখানে পাকা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।”
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ফেলে অস্থায়ী সংস্কার করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। বরং নদীতীরে ব্লক বসিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং এলাকার সৌন্দর্য ও যোগাযোগব্যবস্থাও সুরক্ষিত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “বালসা, জ্ঞানাদানগর ও হরদমার বিলহরিবারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ও খালের তীরবর্তী হওয়ায় সেগুলোর সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ব্লক দিয়ে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড, নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” এবং ইতিমধ্যেই বিলহরিবারি প্রাইমারি স্কুলসংলগ্ন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বালসা ও জ্ঞানাদানগর প্রাইমারী স্কুলসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে স্থায়ী সমাধান করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









