লালমনিরহাটে গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হলেও মাত্র ৭ মিলিমিটার দেখিয়েছে রংপুর আবহাওয়া অফিস। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯ টা থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৭৫ মিলিমিটার, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। অথচ একই সময়ে রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেখালো মাত্র ৭ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলার সচেতন মহল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে মূলত মে মাস থেকে শুরু হয়। গত ২৪ ঘন্টার (রবিবার সকাল ৯ টা থেকে সোমবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত) তাদের রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৭৫ মিলিমিটার। যা এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এর আগে গত জুন মাসের ১৫ তারিখে সর্বোচ্চ ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কিন্তু রংপুর আবহাওয়া অফিস তাদের বার্তায় জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় (রবিবার সকাল ৯ টা থেকে সোমবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত) অর্থাৎ একই সময়ে তাদের রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ মিলিমিটার।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যন্ত্রটি প্রায় দু'মাস ধরে বিকল। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যন্ত্রটির মাধ্যমে কম্পিউটারের যে রেকর্ড পাই তা প্রকাশ করি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানিয়ে দেই। এক্ষেত্রে আমরা ৭ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড পেয়েছিলাম, সেটাই দিয়েছি।”
তবে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনীতা দাস আবহাওয়া অফিসের এমন কোনো কোনো যন্ত্রের খোঁজ দিতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার লালমনিরহাটে দিনভর থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, বিশেষ করে সন্ধ্যার আগ মুহূর্ত থেকে মাঝরাত পর্যন্ত একটানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এই ব্যাপক বৃষ্টির ফলে নীচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
এ দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের জন্য পাঁচটি উপজেলার কৃষি অফিসগুলোয় একটি করে রেইন গেইজ মেশিন স্থাপন করা আছে। যা থেকে ম্যানুয়্যালি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা, কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সর্বপরি জনজীবনে প্রভাব ফেলার বিষয়টি নির্ভর করে। একইসাথে আবহাওয়া অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত পরিমাপের জন্য একটি করে যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়েও একটি যন্ত্র স্থাপন করা হয়। যদিও সেই যন্ত্রের সন্ধান কেউ দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাটে স্থানীয়ভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় না থাকায় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি বিষয়গুলোয় রংপুর আবহাওয়া অফিসের দ্বারস্থ হতে হয় সরকারি-বেসরকারিভাবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, শৈত্যপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দূর্যোগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন বার্তা জনজীবনে সূদুর প্রসারি প্রভাব রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









