লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পা কেটে যাওয়ার পর টিটেনাস (টিটি) ইনজেকশন নিতে গিয়ে ভুলবশত জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইশরাত জাহান (১৩) নামে এক কিশোরী অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর বাজারের দীপ্ত মেডিকেল হলে ইশরাত জাহানকে টিটেনাস (টিটি) ইনজেকশন দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে কর্মচারী তপন (৫০) ভুলবশত টিটির পরিবর্তে জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত 'সোমা-জেক্ট' ইনজেকশন প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ইশরাতের বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরে সে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে বাড়িতে রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
ইশরাতের বাবা সফিউদ্দীন নয়ন বলেন, আমার মেয়েকে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্রদীপ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। কিন্তু টিটির পরিবর্তে 'সোমা-জেক্ট' ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রায়পুর পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী তার নাম ভাঙিয়ে প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে এবং অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না বলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
তবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রায়পুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী বলেন, সফিউদ্দীন নয়নের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পাওনা টাকা নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, প্রদীপ নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃত চিকিৎসক নন। ভুল চিকিৎসার কারণেই মেয়েটি অসুস্থ হয়েছে। এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে দীপ্ত মেডিকেল হলের মালিক প্রদীপ চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি আমাদের ভুল হয়েছে। একসঙ্গে টিটি ও 'সোমা-জেক্ট' ইনজেকশন বের করা হয়েছিল। আমার দোকানের কর্মচারী তপন না বুঝে ভুল ইনজেকশন দিয়ে ফেলেছে। বিষয়টি বাজার কমিটির মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে। চাইলে বাজার কমিটির সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বাহারুল আলম বলেন, ঘটনাটি এইমাত্র জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









