পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম (পিতা: মৃত ইউসুফ আলী) প্রায় ছয় বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, মানসিক অসুস্থতার কারণে নিজের এবং অন্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়েই তাকে শিকল দিয়ে রাখতে হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুস সালাম বাড়ির আঙিনায় শিকলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
জাতীয় দৈনিক এদিনের প্রতিনিধির সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার কথা হয়। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সালাম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি এতদিন প্রশাসনের নজরে না এলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অন্যদিকে, আব্দুস সালামের পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এবং তারা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং বিভিন্ন সময়ে নিজের ও আশপাশের মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেছেন। এমতঅবস্থায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাকে শিকল দিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবার আরো দাবি করেন তার প্রতি কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয় না এবং তার খাবার, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া হয়।
আব্দুস সালামকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়ে চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বলেন, "বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে স্থানীয় কিছু মানুষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, আব্দুস সালামের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটি নির্যাতনের ঘটনা নয়; বরং একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার রাখার জন্য আমরা এমনটি করেছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং মানবাধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য ও তাই কোনো পক্ষের কথাকে একতরফাভাবে গ্রহণ না করে প্রশাসন, সমাজসেবা
অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, করতে হবে। আব্দুস সালামের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









