সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে ‘উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক অভিযোজন পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী নারী উন্নয়ন সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৈখালী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন ইউপি সদস্যা মোছা. খায়রুন্নেছা। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন বারসিকের ট্রেইনিং অ্যান্ড এ্যাডভোকেসি অফিসার বরষা গাইন।
প্রশিক্ষণে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন সংকট, যেমন- লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানির সংকট, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাল দখল, জীবিকা ও কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় অংশগ্রহণমূলক অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান, স্থানীয় উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশল নিয়ে দলীয় আলোচনা এবং আগামী দিনে এসব কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা গ্রীন কোয়ালিশনের সদস্য কৃষক নেতা হাবিবুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুর ইসলাম, ৬০ নং পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সিরাজ মল্লিক, জয়াখালী মহাজেরিন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মো. আমিন আলী, পূর্ব কৈখালী’র গোত্র প্রধান প্রশান্ত কুমার মুন্ডা, পশ্চিম কৈখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের চর্চাকারী ফজিলা খাতুন, শতবাড়ীর সংগঠক জহুরা খাতুন, কৈখালী ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য রোজিনা পারভীন, বারসিক-এর সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম ওসমান গনী সোহাগ প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









