আগামী ১৬ জুলাই শহীদ দিবস ও ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জাতীয় কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।
সভায় জাতীয় কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সার্বিক আলোচনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাই সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, জুলাই যোদ্ধা রাসেল, মো. উল্লাস হোসেন, নাজমুস সাকিব, আবু হানিফসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জুলাই যোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী কুষ্টিয়ায় ৩২ জন জুলাই যোদ্ধার নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকি সংবলিত একটি তালিকা বা চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
এছাড়া শহরের উপজেলা মোড়, মজমপুর গেট, এনএস রোডসহ বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মাণাধীন স্মৃতিস্তম্ভের কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের জীবনী ও নামফলক সংবলিত স্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপনেরও দাবি ওঠে।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা, মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা মানুষের চিন্তা-চেতনা, আচরণ ও কর্মপরিকল্পনায় বছরজুড়ে প্রতিফলিত হতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে।
সভায় জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









