জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ‘‘আমরা ভুল করেছি। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে গিয়েছি। কিন্তু মানবাধিকারে উন্নতি করতে পারি নাই। আর ভুল নয়। আমাদের বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে সকল প্রতিহিংসা, জিঘাংসা দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গুলশানের ইমানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পক্ষে, বিপক্ষে এই বিতর্ক আমরা চাই না। ৭১ ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না। যে সংসদে আপনারা বসেছেন, কথা বলছেন এটা বাংলাদেশের সংসদ। সরকারকে বলতে চাই, আপনারা সময় বেশি পাবেন না যদি জনগণ যা চায়, তা না করেন। আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসেবে সংসদে এসেছেন। সেই বৈষম্য আপনাদের দূর করতে হবে।’’
স্মরণসভায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয় নাই। অন্তর্বর্তী সরকার একটা দলকে বিরোধীদল বানাতে চেয়েছিল। সুষ্ঠু পরিবেশ হলে আমরা (জাতীয় পার্টি) বিরোধী দল হতাম।’’
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘‘দেড় বছরের দুঃশাসনের ফল আমরা ভোগ করছি। বিএনপি সরকার বড় বাজেট দিয়েছে এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আইএমএফও এই কথা বলছে। আমরা সংস্কার চাই। এটা সকলের চাওয়া। সংস্কার যদি আমরা করতে না পারি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।’’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও এনডিএফ মুখপাত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘‘নির্বাচনটা হয়ে গেল, সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনটা হলে ভালো হতো। আশা করব আগামী নির্বাচনটা সকল দলের অংশগ্রহণ হবে। জাতীয় পার্টির সবসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা কোন রাজনৈতিক দলের শত্রু না। আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আমাদের উচিত সকলে মিলে দেশের কল্যাণে কাজ করা।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলব, আপনি সকল দুর্নীতিবাজদের বিচার করুন। দুর্নীতির বিচার যদি কঠিন হয়, তাহলে দেশ থেকে দুর্নীতি কমে যাবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের পাশাপাশি, বিদ্যুতের মূল্য কমাতে হবে। এই সেক্টরে সরকারকে আরও নজর দিতে হবে।’’
এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সব সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির চর্চার কথা বলছেন। এজন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান। জিয়াউর রহমানও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। আমরা আশা করব তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি বিকশিত হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলাম তখন ’৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যা আমরা মোকাবিলা করেছিলাম। আমাদের প্রয়াত নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটে গিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বন্যা মোকাবিলা করেছিলাম।’’
বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা বৃদ্ধি, ও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়ার কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, লেবার ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় ইসলামি মহাজোট চেয়ারম্যান আবু নাসের মো. ওহেদ ফারুক, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মহসিন রশিদ, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজু, জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোবারক হোসেন আজাদ, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক ফখরুল আহসান শাহজাদা, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, জাতীয় মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শরফুদ্দিন আহমেদ শিপু, জাতীয় পার্টি জেপির যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, চট্রগ্ৰাম মহনগর সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মাহমুদ কামাল প্রমুখ।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রতনা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাহজাহান, মো. বেলাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আহমেদ, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সার্বজনীন দলের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ মনির, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম এ জলিল, ইউডিপি চেয়ারম্যান নারায়ন কুমার দাস, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাদ, আনোয়ার হোসেন তোতা, ডা. সেলিমা খান, মিজানুর রহমান দুলাল, বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ, বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার দাশগুপ্ত, নোটারি পাবলিক সমগ্ৰহ বাংলাদেশ সভাপতি শেখ আবদুল হক চাষী, জাতীয় পার্টির ও জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে জাতীয় যুব সংহতির উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
এর আগে, ১৪ জুলাই প্রথম প্রহরে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত এরশাদের প্রতিকৃতিতে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল আহসান শাহজাদা ও বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









