২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময় সাশ্রয় এবং শিক্ষাবর্ষকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাবর্ষকে আরও সময়োপযোগী করতে সরকার পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্গঠনের কাজ করছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুনে আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার সময়সূচিতে এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার মধ্যে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় কমবে। সরকার পর্যায়ক্রমে সব পাবলিক পরীক্ষা আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের শূন্য প্রধান শিক্ষক পদগুলো দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
খায়রুল কবির খোকন তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের ৩৪ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এবং শূন্য পদগুলো কবে পূরণ হবে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি রিট মামলা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। আইনি জটিলতা দূর হওয়ায় এখন দ্রুত যোগ্য শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আগের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালায় এ হার বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। মামলার কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখন সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









