সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক সেবনের ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান। আলোচনা ব্যতিরেখে কোন তথ্য সূত্র ছাড়া প্রতিবেদনের ফলাফল সম্পর্কে মনগড়া মন্তব্য না করার আহ্বান। সামগ্রিক বিচার বিশ্লেষণ শেষে সমন্বিতভাবে দ্রত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
জানা যায়, ১লা জুলাই জৈন্তাপুরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী দৃশ্যমান হওয়ায় বিশেষ করে ফেসবুকে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক এক ভিডিও বার্তায় চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ছবিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে বলে দাবী করেন।
২ জুলাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু ফেসবুকের প্রতিবাদকারীরা এতেও সন্তোষ্ট না হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু করেন। বিশেষ করে কিছু সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারী ইন্তাজ চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের বিচার দাবীর পাশাপাশি স্হানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। শুধু তাই নয়, তারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এব্যাপারে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, আমরা চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর মতামত এবং শুধু মাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের আলোকে স্হানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রচার করেছি এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায়। কিন্তু কিছু কিছু অতিউৎসাহী মানুষ মনে করে এই বিষয়ে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করবে। অথচ প্রতিবাদের এমন কর্মসূচি পালন বা বাস্তবায়ন করার কথা যাদের তারা তাদের প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রেখে সাংবাদিকদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।
১৪ জুলাই তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেন। এতে উল্লেখ করেন, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই জন ব্যাক্তির মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি তদন্তে অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্টভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল সদস্যদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব বন্টন করে কর্মকৌশল সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখন পর্যন্ত চুড়ান্ত সমন্বিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়াও লক্ষ করা যাচ্ছে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা কমিটির আহবায়কের সাথে আলোচনা ব্যতিরেখে কোন রকম তথ্য সূত্র ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কেউ কেউ মন্তব্য প্রচার করছে, যা খুবই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এই ধরনের মন্তব্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারনা সুষ্টভাবে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে, যা কোন ক্রমেই গ্রহনযোগ্য নয়। এই সকল মিথ্যা তথ্য সূত্র প্রচারনায় বিব্রান্ত না হওয়ার জন্য প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। সামগ্রিক বিচার বিশ্লেষণ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার চুড়ান্ত সমন্বিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









