টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ধসে ও পানিতে ডুবে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লামা পৌরসভা, বান্দরবান পৌরসভা ও সদর উপজেলা। এছাড়াও জেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার সময় দুই দিনের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের জন্য এক হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং প্রতিটি পরিবারকে তিন হাজার টাকা করে অনুদান চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের বন্যায় ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৫ হাজার ৩২৩ জন।
অন্যদিকে, বন্যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চারটি সেতু ও কালভার্ট। এর মধ্যে একটি সচল করা হয়েছে, বাকি তিনটির মেরামতের কাজ চলছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ নকশার গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ, অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাকসি খাল সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বন্যার ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “বান্দরবানকে দীর্ঘমেয়াদে বন্যামুক্ত করতে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ, প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক উঁচু করা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী খনন এবং শহরের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ মাকসি খাল দখলমুক্ত করে সংস্কার করতে হবে। জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও এলজিইডির সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”
ছবির ক্যাপশন: মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বান্দরবানে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং করছেন জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









