মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, হাজিপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মনু নদীর তীর, মিয়ারপাড়া, দক্ষিণ হাজিপুর, আশ্রয়গ্রাম, হাজিপুর ইউনিয়নের কঠারকোনা ও কাওকাপন বাজার এবং পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নদীতীর ও বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় প্রায় ৮০ ফুট বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বাঁধের সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না করা হলে বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্তা সেন (৪০), লীলা সেন (৫৫), লক্ষ্মী সেন (৬৫), নিউটন চন্দ্র সেন (২৪), শ্রীকান্ত দে (৪৫) ও সুমন দত্ত (৩০) বলেন, তাজপুর গ্রামের এই বাঁধটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। বৃষ্টি চলতে থাকলে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত বাঁধটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী বলেন, “এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ভাঙন দেখা দিলে শুধু টিলাগাঁও নয়, কুলাউড়ার আরও কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কৃষিখাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।”
টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বলেন, “আমি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। দ্রুত কাজ শুরু হলে বড় ধরনের দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হবে।”
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ বলেন, “কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। তাজপুরের ভাঙনস্থলও দেখা হয়েছে। খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, “মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









