দীর্ঘ ১৫ বছর পর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকার আলোচিত আসাদুল ইসলাম দুলাল (২৭) হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে মামলার প্রধান আসামি মো. মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মামুনুর রশীদ সুমন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. শাহিন ওরফে পিচ্ছি শাহিন, মো. ফরিদুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু, মো. নূর আলম, মো. লিটন মিয়া, মো. রবিউল ইসলাম এবং মো. হাফিজুল ইসলাম। রায় ঘোষণার পর আদালত তাদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে পাটগ্রাম উপজেলার উত্তরমারী (বুড়িমারী) এলাকায় আসাদুল ইসলাম দুলালকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন ২৫ আগস্ট নিহতের বাবা মফিজাল হোসেন প্রধান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত দুলালের শ্বাসনালী ও ডান পাশের প্রধান রক্তবাহী ধমনী কেটে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান আসামি মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, “এ রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মামুনুর রশীদ সুমনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









